শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯:৪২ পিএম, ২০২১-০৪-২৬
চলমান অস্থির ও নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যরাতে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। উপদেষ্টা কমিটির পরামর্শক্রমে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘রাতে হেফাজতে আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি সেই দায়িত্বটি আমাকে পালনের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশমতউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তমতে হেফাজতের আগামীর সব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করছি।’
তিনি জানান, কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আমির হিসেবে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং সদস্য সচিব হিসেবে মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। এছাড়া সদস্য হিসেবে মাওলানা সালাহ উদ্দীন নানুপুরী ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।
এদের মধ্যে মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও জুনায়েদ বাবুনগরী ফটিকছড়ির সন্তান ও আপন মামা ভাগিনা। নুরুল ইসলামসহ এ তিনজন হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটিতে একই পদে ছিলেন। এদিকে সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম ঢাকার, সদস্য মিজানুর রহমান গাজীপুরের এবং বাকি তিনজন শুধুমাত্র চট্টগ্রামের তা নয়; সবাই ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা।
সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাসির উদ্দীন মুনীর বলেছেন, ‘এই কমিটি অতি দ্রুত হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করবেন।’
এর আগে, রবিবার রাত সাড়ে দশটার পর নানামুখী চাপের পর সাড়ে চার মাসের মাথায় ভেঙে দেওয়া হয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি। ভিডিও বার্তায় জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন, ঈমান আকিদার সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পরামর্শক্রমে এ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। ইনশাআল্লাহ আগামীতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের নতুন কার্যক্রম শুরু হবে।’
গত ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির নির্বাচিত হয়েছিলেন হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকার জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও হেফাজতের ঢাকা মহানগর শাখার আমির নূর হোসাইন কাসেমী। যিনি পরে করোনায় মারা যান।
এদিকে হেফাজতের কমিটির ভাঙার পরপরই ফেসবুক বার্তায় প্রথম কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী ঘোষণা দিয়েছেন আহমদ শফীর নীতি আদর্শের হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন তারা। এক ভিডিও বার্তায় প্রথম কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী বলেন, ‘গত ২০২০ ইংরেজি ১৫ নভেম্বর তথাকথিত হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিলের মাধ্যমে সিন্ডিকেট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যে অবৈধ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমি বারবার অনেক লাইভে এসে বলে এসেছিলাম। এটা একটা অবৈধ কমিটি, সিন্ডিকেট কমিটি। এটা একটা রাজনৈতিক উচ্চবিলাস এবং হেফাজতের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যেকে বিসর্জন দিয়ে এ কমিটিকে গঠন করা হয়েছে। তথাকথিত সম্মেলনের মাধ্যমে একটি কমিটি গঠনের চার মাস সাড়ে চারমাসের মাথায় এসে দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে এ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। এ কমিটিকে বিলুপ্তি ঘোষণা করেছেন কমিটির আমির সাহেব।’
হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত
‘আমি এ কমিটি বিলুপ্ত করার যে ঘোষণা এসেছে সেই ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। আমি দেশবাসীকে আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) এর মূলধারা হেফাজতে ইসলাম, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে দেশের উন্নয়ন ও দেশের সমৃদ্ধি এবং দেশের ঐক্যবদ্ধ স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে হেফাজতে ইসলাম আগামীতে ইসলামের জন্য এবং ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য। ইসলামী আকিদা বিশ্বাস সংরক্ষণের জন্য হেফাজতে ইসলাম কাজ করবে। সে লক্ষ্যে আমরা অতি শিগগিরই আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের নীতি আদর্শের হেফাজতে ইসলামের গঠন করব।’—যোগ করেন রুহী।
বাবুনগরীর বিরোধী পক্ষের প্রধান নেতা হিসেবে পরিচিত হেফাজতের এক সময়ের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, ‘যে হেফাজতে ইসলামের কমিটি আমাদের পূর্ব পুরুষরা যেভাবে ইসলামকে সংরক্ষণ করেছেন। ইসলামের ভাবধারা, ইসলামের ভাবগম্ভীর্যকে সংরক্ষণ করেছেন। সেই পদাঙ্কন অনুসরণ করে আমরা হেফাজতের ইসলামের কমিটি শিগগিরই পুনঃগঠন করব এবং সংস্কার করব। ইনশাআল্লাহ। আপনারা দেশবাসী আমাদের সাথে থাকবেন। কওমি ওলামায়ে কেরাম আমাদের সাথে থাকবেন। কওমি ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। যেকোন পরিস্থিতিতে যেকোনও সংকটে আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের নীতি আদর্শকে বুকে ধারণ করে... আমরা পথ এগিয়ে যাব। এ চলার পথে আমরা সব বাধা বিপত্তিকে ডিঙিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আশা করি দেশবাসী আমাদের সাথে থাকবেন।’
কওমি মাদ্রাসায় রাজনীতি নিষিদ্ধ— নিয়ন্ত্রণ হারালো হেফাজত
সূত্র জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অন্তত ১৭ জন মানুষের প্রাণহানি হয়। এসব নাশকতার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত এক ডজন হেফাজত নেতা গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তার তালিকায় রয়েছে আরও দুই শতাধিক নেতাকর্মী। হেফাজত সরকারের সঙ্গে সমোঝতা চাইলেও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রস্তাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এরকম সব নেতাকে কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার প্রস্তাবে রাজি হয় হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব। এরপর মূলত জুনায়েদ বাবুনগরী এ সিদ্ধান্ত নেন।
২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর হেফাজতে ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নেয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হেফাজতের কমিটিতে যুক্ত হতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে নতুন নেতৃবৃন্দ সরকারবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ফলে সরকারও বাধ্য হয়ে ইউটার্ন নেয়। সু সম্পর্ক ছিন্ন করে কঠোরভাবে দমন করতে শুরু করে হেফাজতকে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রিয় ১২ জন নেতাসহ গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত ১৮ জনের বেশি প্রথম সারির নেতাকে।
এ অবস্থায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে যিনি সব মহলে গ্রহণযোগ্য এবং আল্লামা শফীর অনুসারি। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে থাকতে পারবেন না, তাদের অবশ্যই হেফাজতের পদ ছাড়তে হবে। এমনকি কওমি মাদ্রাসা কিভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড, যেখানে হেফাজতে ইসলাম কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। কওমি মাদরাসা পরিচালনার সব সিদ্ধান্তই নেবে বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
হেফাজতকে ঢেলে সাজাবে শফীপন্থিরা
রবিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় সংস্থাটির স্থায়ী কমিটির সভায় আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে । বৈঠকে কওমি অঙ্গনে বিরাজমান অস্থিরতা থেকে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং ওলামায়ে কেরামের মান বজায় রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
স্থায়ী কমিটির সভায় কওমি আলেমরা ৬টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেগুলো হলো— কওমি মাদ্রাসা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে একমাত্র আল-হাইআতুল উলয়া। কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত ব্যতীত পৃথকভাবে কওমি মাদ্রাসার বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ বা উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্তের ফলে কওমি মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্তৃত্ব দৃশত চলে গেল। কওমি মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা প্রচলিত সর্বপ্রকার রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকবে।
ঢাকা অফিস : : জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর বনানীর সামরিক কব...বিস্তারিত
আনোয়ারা প্রতিনিধি : : রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের চুন্নাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত খ...বিস্তারিত
সাতকানিয়া প্রতিনিধি : : সাতকানিয়ায় আতিয়া ইদনাত চৌধুরী জয়িতা (১৭) নামের সরকারি কলেজের এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী সারাদেশে ভালো ফলাফল করলেও চট্টগ্রামে ভরাডুবি হয়েছে।...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম&n...বিস্তারিত
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়িতে ৩০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited